ডিলিট করা ছবি ফিরিয়ে আনা যায় কিভাবে?

পার্মানেন্ট রেকর্ড

এডওয়ার্ড স্নোডেনকে নিশ্চয়ই চিনেন। সেই প্রযুক্তি বিপ্লবী যে এনএসএ’র কর্মকর্তা থাকাবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের গোপন নজরদারীর বিষয়টি ফাঁস করেছে। আর এই বইটি স্নোডেনের জীবনী। কীভাবে গোপনে আপনার ডিভাইস থেকে সব ডাটা এনএসএ’র সার্ভারে জমা হয় কীভাবে আপনার সবকিছু ডিভাইসের মাধ্যমে ভিডিও ও রেকর্ড করা হয় তার বিস্তারিত আছে বইটিতে।

স্নোডেনর মতে টেকনােলজিক্যালিতে ডিলিট বলতে কিছু নেই। এটি একটি মিথ্যা যা কম্পিউটার আপনাকে আশ্বস্ত করার জন্য বলে। ডিলিট করার ফলে আপনার চোখের সামনে থেকে কোনাে ফাইল চলে গেলেও এটি মূলত একধরনের Hidden. আপনি কোনাে ফাইল ডিলিট করা মানে এটি স্পর্শের বাইরে ডিস্কের কোথাও না কোথাও আছে। আধুনিক অপারেটিং সিস্টেম একটি ডিস্কের গভীরে গিয়ে তা সম্পূর্ণ পরিষ্কার করার সামর্থ্য রাখে না।

বিষয়টা পরিষ্কার করার জন্য আমাদের দরকার হার্ডডিস্কের ফার্মওয়্যার সম্পর্কে কিছু বিষয় জানা। আমরা আসলে ডিলিট বলতে যা বুঝি সেটা হচ্ছে ঐ মেমোরি বা হার্ড ডিস্ক থেকে ডেটাগুলোকে তুলে একেবারে ফেলে দেয়া, এরকম কিছু। কিন্তু আসল কথা হচ্ছে হার্ডডিস্কের ফার্মওয়্যার এমনভাবে সেট করা যেখানে থেকে কোন ডেটা একেবারে তুলে ফেলে দেয়না।

প্রথমে বুঝি হার্ডডিস্কে আমরা ডেটা রাখি কিভাবে? মেমোরিতে ডেটা রাখাটাকেই write করা বলে। মাইক্রোসফট এক্সেলে যেমন হাজার হাজার সেল থাকে ঠিক স্টোরেজ ডিভাইসগুলোও এরকম ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সেলে বিভক্ত যেগুলোকে বলা হয় মেমোরি এড্রেস। ঐ সেল বা এড্রেসগুলতে হেক্সাডেসিমেল নাম্বার বসিয়ে ডাটা সেভ করা হয়। কেননা কম্পিউটার আমাদের ছবি, ভিডিও এরকম সব ফাইলকে হেক্সাডেসিমেল ভেলুতে কনভার্ট করে নেয়। তারপর ঐ হেক্সাডেসিমেল নাম্বারগুলো প্রতিটা এড্রেসে বসিয়ে দেয়।

তো আমরা যখন কোন ফাইল ডিলিট করে দেই, তখন কম্পিউটার ঐ হেক্সাডেসিমেল নাম্বারগুলো নির্দিষ্ট সেলগুলো থেকে একদম সরিয়ে দেয়না বরং বলে দেয় যেই সেলগুলতে ঐ ফাইলের হেক্সাডেসিমাল নাম্বারগুলো আছে, সে সেলগুলোর উপর আবার নতুন কোন ফাইল লিখা যাবে।

এইজন্য কোন ফাইল ডিলিট করার পরও সেই ফাইল আবার ফিরিয়ে আনা যায় কেননা ঐ হেক্সাডেসিমেল নাম্বারগুলো মেমরিতে তখনও বিদ্যমান থাকে। কিন্তু কোন ফাইল ডিলিট করে ফেলার পর কম্পিউটার যদি আবার যদি ঐ সেলগুলোর উপর লিখে ফেলে অর্থাৎ আবার যদি কোন ফাইল রাইট করা হয় যেমন ছবি তুলা, কপি করে ফাইল রাখা ইত্যাদি কাজ করা হয় তখন আগের হেক্সাডেসিমেল নাম্বারগুলোর উপর নতুন ফাইলের নাম্বারগুলো overwrite করা হয়। যার কারণে recovery software দিয়ে কোন ফাইল উদ্ধার করা গেলেও ফাইলটি কিছুটা নষ্ট হয়ে যায়। পুরোপুরি ফাইলটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়না কেননা কিছু সেলের উপর আবার লিখা হয়ে যায়। তখন দেখা যায় উদ্ধার করা ছবির অর্ধেক আসছে, বাকি অর্ধেক নাই।

“পার্মানেন্ট রেকর্ড” নামের স্নোডেনের বইটিতে এরকম কিছু বিষয় দেখানো হয়েছে যে কম্পিউটারে ফাইল টেবিল নামে একটি ম্যাপ আছে। এটি অনেকটা একটি বিশাল লাইব্রেরিতে অবহেলায় পড়ে থাকা বইয়ের মতাে। যে ফাইলটি আপনি ডিলিট করেছেন এটি কেউ চাইলে খুঁজে বের করে পড়তে পারবে। আপনি উৎস মিটিয়ে দিলেও বই ঠিকই থাকবে।

পরবর্তীতে যখন কোনাে ফাইল কপি করবেন তখন নিজেকে জিজ্ঞেস করবেন এটি ডিলিটের চেয়ে বেশি সময় নেয় কেন। কারণ ডিলিট একটি ফাইলকে লুকিয়ে ফেলা ছাড়া আর কোনাে কাজ করে না। খুব সাধারণভাবে চিন্তা করুন, কম্পিউটার আপনার কোনাে ভুলকে শুধরে দেয় না। তা শুধু লুকিয়ে রাখে। আর লুকিয়ে রাখে শুধু তাদের কাছ থেকে যারা জানে না এটি কোথায় খুঁজতে হবে।

রিভিউটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছে বইয়ের ফেরিওয়ালা ডট কমে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WordPress Lightbox Plugin