ভারতের ভিতরে নতুন হিন্দু রাষ্ট্রের পরিকল্পনা

গেরুয়া রঙের পতাকা, মাঝখানে সোনালী মশাল। থাকবে আলাদা সংবিধানও। ইসরায়েলের সাথে কথাও চুড়ান্ত। ইসরায়েলের কাছে চারটি জিনিস চাওয়া হয়েছে, নিরবিচ্ছিন্ন প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রের জোগান। তেল আবিবে গেরুয়া পতাকা নিয়ে অফিস শুরু করতে দিতে হবে, রাজনৈতিক আশ্রয় এবং হিন্দু রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা নিয়ে জাতিসংঘে সমর্থন করতে হবে। ইসরায়েল ছয় মাস অপেক্ষা করতে বলেছে ও দুটো জিনিস মেনে নিয়েছে, গেরুয়া পতাকা নিয়ে তেল আবিবে তারা অফিস করতে দিতে রাজি নয়, কারণ তারা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করতে ইচ্ছুক নয়। আর আগামী দুবছরের জন্য অন্তত আন্তর্জাতিক মঞ্চে তারা খোলাখুলি সমর্থন দিতে পারবে না।

জুন ২০০৬ এবং ২০০৭-এ রাজা ভানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। রাজা কিছু প্রস্তাব মেনে নিয়েছে। প্রত্যেক বছর অফিসার হিসেবে ২০ জনকে ও সেনা হিসেবে ৪০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে সেখানে। রাজাকে অনুরোধ করা হয়েছে, যেহেতু নেপাল স্বাধীন রাষ্ট্র সেই হিসেবে তারা চেকোস্লোভাকিয়ার কাছ থেকে একে-৪৭ কিনুক। তাদের অস্ত্র কেনার টাকা দেওয়া হবে। রাজা রাজি হয়েছিল।

এই হিন্দু রাষ্ট্রে কোনো গণতন্ত্র থাকবে না। সেখানে একজন রাজাই রাজত্ব চালাবে।
এই রাষ্ট্রে কোনো রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকবে না, যারা এই বিষয়টির বিরোধিতা করবে, তাদের সরিয়ে দেওয়া হবে। সংস্থা ৭৫ জনকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তালিকা তৈরি করেছে। যে কেউ যদি হিন্দু আর্যাবর্ত সরকারের বিরোধিতা করে, তাকেই বর্জন করা হবে, খুন করা হবে। রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ হিসেবেই ৭০ জন (অথবা ৭৫)-কে সরিয়ে দেওয়া হবে। এটা না হলে অপরাধ হবে।”

উপরের পুরো লেখাটি ২০০৮, মালেগাঁও বিস্ফোরণের তদন্ত শেষ করার পর মহারাষ্ট্র এটিএস, ২০০৯, ২০ জানুয়ারি নাসিকের MCOCA আদালতে ৪ হাজার ৫২৮ পাতার যে চার্জশিট পেশ করে সেটা থেকে নেওয়া।

আরো বিস্তারিত জানতে পড়তে হবে, মহারাষ্ট্র পুলিশের সাবেক আইজিপি এস.এম. মুশরিফের লেখা ‘ভারতে সন্ত্রাসবাদের আসল চেহারা’। প্রকাশ করেছে, প্রজন্ম পাবলিকেশন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

WordPress Lightbox Plugin